৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া ২০২৬
আপনি কি ৫০ হাজার টাকায় ব্যবসার আইডিয়া খুজছেন ? বর্তমানে অল্প পুজিতে লাভজনক ব্যবসা শুরু করা অনেক সহজ হয়ে গেছে। আজকের ব্লগে আমরা এমন ইউনিট ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করব যা আপনি ৫০ হাজার টাকায় শুরু করতে পারবেন ।
পঞ্চাশ হাজার টাকায় অনেক লাভজনক শুরু করা যায়।শুরুটা ছোট হলেও ধীরে ধীরে ৫০ হাজার টাকার ব্যবসা এক সময় অনেক বড় করতে পারবেন এরকম কিছু ব্যবসার আইডিয়া আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করব ।
পোস্ট সূচিপত্রঃ ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসাযর আইডিয়া
- ৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া
- জনপ্রিয় অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসার আইডিয়া
- উৎপাদন ভিত্তিক লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া
- সার্ভিস ভিত্তিক ব্যবসার আইডিয়া
- পরিবেশবান্ধব ইউনিক ব্যবসা আইডিয়া
- খাদ্য ও পানীয় ভিত্তিক ব্যবসার আইডিয়া
- নারী উদ্যোক্তা উপযোগী ব্যবসার আইডিয়া
- ব্যবসা সম্পর্কে কিছু টিপস
- শেষ কথাঃ ৫০ হাজার টাকায় ২৫টি ব্যবসার আইডিয়া
৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া
৫০ হাজার টাকা যদিও বর্তমান যুগে এমাউন্টটা অনেক কম তারপরও একটি নতুন ব্যবসা শুরু করার জন্য যথেষ্ট বর্তমান যুগে ব্যবসা-বাণিজ্য অনলাইন ভিত্তিক হওয়ায় হয় অল্প পুঁজিতে ব্যবসা শুরু করা যায় অল্প পুজিতে ব্যবসা শুরু করলে ঝুকি কম থাকায় যেকোনো একটি ব্যবসার মডেল টেস্ট হিসেবে শুরু করার যায়। ৫০ হাজার টাকায় একটি ছোট বা মাঝারি ধরনের ব্যবসা শুরু করা যায়। সঠিক পরিকল্পনা কাজের প্রতি মনোযোগী ও ডিজিটাল মার্কেটিং এর সঠিক ব্যবহার করতে পারলে অল্প টাকায় ভাল মুনাফা অর্জন করা সম্ভব।
৫০ হাজার টাকায় বাংলাদেশে সহজ ও লাভজনক ব্যবসা গুলো হচ্ছে - ইউটিউব চ্যানেল, এফিলিয়েট মার্কেটিং, ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন কোর্স, হোমমেড খাবারের ব্যবসা, অনলাইন বুটিক ব্যবসা, খাদ্য উৎপাদন ব্যবসা, অর্গানিক বিউটি প্রোডাক্ট তৈরি, হস্তশিল্প ও ক্রিয়েটিভ পণ্য, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, অর্গানিক কৃষি ব্যবসা, বেকারি ব্যবসা, হোমমেড ফুড সার্ভিস এর ব্যবসা, ফাস্টফুড শপ,
জনপ্রিয় অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসার আইডিয়া
বর্তমানে মানুষ ঘরে বসে কেনাকাটা করছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস, পোশাক, হোমমেড খাবার,বিউটি প্রোডাক্ট সবকিছুই অনলাইন থেকে কিনছে তাই এ ধরনের অনলাইন ভিত্তিক যে কোন ব্যবসা ঘরে বসে শুরু করা যায় এবং ঝুঁকি ও কম থাকে।
২.অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংঃ আপনি কোন কোম্পানির পণ্য বা সার্ভিস প্রচার করবেন কোম্পানির পক্ষ থেকে আপনাকে একটা লিংক দেয়া হবে সেই লিংকে ক্লিক করে কেউ যদি পণ্য ক্রয় করে তাহলে ক্রয় কৃত পণ্যের উপর কমিশন পাবেন। অল্প পুজিতে এই লাভজনক ব্যবসাটি করতে পারেন। শুরুতেই একটা মোবাইল ও ইন্টারনেট কানেকশন হলেই চলবে।
৪.অনলাইনে কোর্স /টিউশনঃ অনলাইনে কোর্স ও টিউশন করে ইনকাম করা খুবই জনপ্রিয় ও বাস্তবসম্মত একটি উপায়। আপনি যদি কোন বিষয়ে দক্ষ হয়ে থাকেন যেমন ভালো ইংরেজি বা ভালো গণিত, বিজ্ঞান, আই সি টি এরকম আরো অনেক বিষয় পড়াতে পারেন তাহলে অনলাইনে লাইভ ক্লাস করে টাকা ইনকাম করতে পারেন আবার একবার কোর্স বানিয়ে বারবার বিক্রি করে ইনকাম করতে পারেন। এর জন্য প্রথমে একটি ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ, একটি স্পিকার ও ইন্টারনেট কানেকশন থাকলে শুরু করা যায়।
৫.ফ্রিল্যান্সিংঃ ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে এমন একটি কাজ যেটি আপনি আপনার ইচ্ছামত করতে পারবেন নির্দিষ্ট কোন বাধা ধরা নিয়ম বা সময় মানতে হবে না। আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, কনটেন্ট রাইটিং ইত্যাদি কাজগুলো জেনে থাকেন তাহলে একটি ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ ও ইন্টারনেট সংযোগ কানেক্ট করে অল্প টাকায় শুরু করতে পারবেন।
উৎপাদন ভিত্তিক লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া
উৎপাদন ভিত্তিক ব্যবসা বলতে এমন ব্যবসাকে বোঝায় যেখানে কাঁচামাল ব্যবহার করে নতুন পণ্য উৎপাদন করা যায়। এ ধরনের ব্যবসায় লাভের সম্ভাবনা বেশি থাকে ও নিজের নামে ব্রান্ড তৈরি করা যায়। নিচে উৎপাদন ভিত্তিক ব্যবস্থার কিছু আইডিয়া আপনাদের সাথে শেয়ার করব ইনশাআল্লাহ।
৬.খাদ্য উৎপাদন ব্যবসাঃ খাদ্য উৎপাদন ব্যবসা সবচেয়ে সহজ ও চাহিদা সম্পন্ন সেক্টর। ঘরে বসেঅনলাইনের মাধ্যমে বা স্থানীয় পপুলার কোন জায়গায় ফুড কার্ডের দোকান দিয়ে অল্প পুজিতে লাভজনক একটি ব্যবসা শুরু করতে পারেন যেমন জুস বা পানীয়, বিভিন্ন ধরনের বেকারি আইটে, বিভিন্ন ধরনের চাটনি ও আচার, চা ও কফির স্টল ইত্যাদি।
৭.কৃষি ও এগ্রো ফুড প্রসেসিংঃ কৃষি ও এগ্রো ফুড প্রসেসিং ব্যবসা মানে কাচা কৃষি পণ্য প্রসেস করে বাজারজাতকরণ এতে দাম বেশি পাওয়া যায়এবং অল্প টাকায় শুরু করা যায়। যেমন -বিভিন্ন ফল থেকে জুস জ্যাম জেলি তৈরি করে বাজারজাত করতে পারেন। বিভিন্ন ধরনের শস্য চাল, ডাল, গম, গুড়া মসলা প্রসেসিং করে বাজারজাত করতে পারেন।দুগ্ধজাত পন্য দুধ থেকে দই, ঘি, পনির তৈরি করে বিক্রি করতে পারেন এরকম আরো অনেক পণ্য আছে অল্প দামে ক্রয় করে প্রসেসিং করে বেশি দামে বিক্রি করা যয়।
৯.হস্তশিল্প ও ক্রিয়েটিভ পণ্যঃ বাজারে হস্তশিল্প ও ক্রিয়েটিভ পণ্যের চাহিদা ব্যাপক আবার দাম ও তুলনামূলক বেশি। এ ব্যবসায় দেশের গণ্ডি পার করে বিদেশেও রপ্তানি করা যায়। আপনি যদি কোন হাতের কাজ জানেন বা নতুন নতুন জিনিস তৈরি করতে পারেন তাহলে সেটা দিয়েই শুরু করতে পারেন আপনার ব্যবসা। যেমন -কাঠ, বাশ,বেত ও মাটির তৈরি জিনিসপত্র বিভিন্ন ধরনের শোপিস বানাতে পারেন বা কাপড় কিংবা কোন কিছুর উপর ডিজাইন আঁকতে পারেন, বাটিক ব্লকের কাজ জানেন তাহলে অল্প পুজিতে যেকোনো একটি ব্যবসা শুরু করতে পারেন ইনশাআল্লাহ।
সার্ভিস ভিত্তিক ব্যবসার আইডিয়া
সার্ভিস ভিত্তিক ব্যবসা বলতে এমন এক ব্যবসা কে বোঝায় যেখানে পণ্য নয় বরং সেবা প্রদান করা হয়। অর্থাৎ এখানে আপনি গ্রাহকের কাছে কোন পণ্য বিক্রি না করে তার প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ, দক্ষতা,বা সুবিধা প্রদান করে আয় করতে পারেন। নিচে সার্ভিস ভিত্তিক কিছু ব্যবসার দেয়া হল।
১০.বিউটি ও পার্সোনাল কেয়ার সার্ভিসঃ আপনি যদি একজন বিউটিশিয়ান হয়ে থাকেন তাহলে অল্প টাকায় অনলাইন বা অফলাইনের মাধ্যমে মানুষকে সার্ভিস দিয়ে আয় করতে পারেন আর যদি নাও জেনে থাকেন তাহলে আজকাল অনেক ট্রেনিং সেন্টার আছে যেখানে সকল বিউটি সার্ভিস সম্পর্কে শেখানো হয়। প্রথমে আপনি নির্ধারণ করবেন কি ধরনের সার্ভিস দিতে চান বিউটি পার্লার, (ফেসিয়াল, ব্রাইডাল মেকাপ) স্কিন কেয়ার, হেয়ার কাটিং ও স্টাইল, ম্যনিকিউর পেডিকিউর ইত্যাদি প্রথমে একটা বা দুইটা আইটেম নিয়ে শুরু করতে পারেন এর জন্য প্রয়োজনীয় কিছু সরঞ্জাম ও কসমেটিক প্রোডাক্ট লাগবে শুরুতে নিজের বাসায় শুরু করতে পারেন অথবা হোম সার্ভিস দিতে পারেন। তাহলে অল্প পুজিতে শুরু করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।
১২.ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টঃ ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট হচ্ছে কোন অনুষ্ঠান(বিয়ে জন্মদিন, গায়ে হলুদ, স্কুল-কলেজের প্রোগ্রাম, কর্পোরেট অনুষ্ঠান, কনসার্ট ইত্যাদি ) পরিকল্পনা করা, সাজানো, এবং সফলভাবে পরিচালনা করা। বাংলাদেশে বর্তমানে এটি খুব ভালো একটি ব্যবসা। কারণ মানুষ এখন আর নিজের ঝামেলা না নিয়ে পেশাদারদের দিয়ে অনুষ্ঠান করাতে চায়। ব্যবসা শুরু করতে প্রথমে আপনাকে জানতে হবে ইভেন্ট প্ল্যানিং বাজেট ম্যানেজমেন্ট ক্লায়েন্ট হ্যান্ডেলিং ডেকোরেশন আইডিয়া ইত্যাদি। শুরুতেই ছোট অনুষ্ঠান যেমন ছোট গায়ে হলুদ, জন্মদিন আত্মীয়-স্বজনদের কোন অনুষ্ঠান করে অভিজ্ঞতা নিন প্রথমে ডেকোরেশন লাইটিং এগুলো ভাড়া নিয়ে অল্প পুজিতে শুরু করতে পারেন।
১৩.কনসাল্টিং সার্ভিসঃ কনসাল্টিং সার্ভিস হচ্ছে আপনার কোন দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে য়ে অন্য মানুষকে পরামর্শ দিয়ে সমস্যার সমাধান করা এবং তার বিনিময়ে টাকা নেওয়া। সহজ ভাবে বলতে গেলে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিক্রি করা। প্রথমে নিজের স্কিন ঠিক করুন কোন বিষয়ে তোমাকে সাহায্য করতে পারবেন যেমন ব্যবসা, অনলাইন, স্বাস্থ্য, বিউটি কেয়ার, আইটি সেকশন, মার্কেটিং ইত্যাদি। যেটা সম্পর্কে আপনি বেশি ভাল জানেন সেটা দিয়ে শুরু করবেন।এ ব্যবসা প্রথমে মোবাইল দিয়ে শুরু করতে পারবেন।
পরিবেশবান্ধব ইউনিক ব্যবসা আইডিয়া
পরিবেশবান্ধব ব্যবসায় এখন খুবই সম্ভাবনাময় কারণ ধীরে ধীরে মানুষ পরিবেশ সচেতন হচ্ছে। পরিবেশ বান্ধব ব্যবসা হল এমন এক ব্যবসা যেখানে প্রকৃতি ও পরিবেশের ক্ষতি না করে পরিবেশকে রক্ষা করা। যে ব্যবসা পরিবেশ দূষণ কমায় এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সাশ্রয় করে ও টেকসই ভাবে চলে তাকেই পরিবেশবান্ধব ব্যবসা বলে।
১৪.অর্গানিক কৃষি ব্যবসাঃ বর্তমানে অর্গানিক পণ্যের চাহিদা অনেক বেশি। চাহিদা অনুযায়ী বাজারে মজুদ কম আপনি এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন। প্রথমে বাড়ির ছাদ বা বাড়ির পাশে ছোট কোন জমিতে শুরু করুন কোন প্রকার রাসায়নিক সার, কীটনাশক ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে জৈব সার ব্যবহার করে ও ঘরোয়া কিছু টিপস অনুসরণ করে সবজি বা ফল চাষ করুন।যে সকল সবজি ও ফল দ্রুত ফলন দেয় প্রথমে সেগুলো দিয়ে শুরু করুন তাহলে আপনার পুজিও কম লাগবে আপনি শিখতেও পারবেন।
১৫.রিসাইক্লিং ব্যবসাঃ রিসাইক্লিং মনে হচ্ছে ব্যবহৃত বা ফেলে দেওয়া পণ্য পুনরায় প্রক্রিয়াজাত করে নতুন ব্যবহারযোগ্য পণ্য তৈরি করা। এর মাধ্যমে পরিবেশ দূষণমুক্ত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে। অল্প টাকায় এ ব্যবসা শুরু করা যায় প্রথমে আশেপাশের মানুষের কাছ থেকে পুরাতন কাগজ প্লাস্টিকের বোতল লোহা ও বিভিন্ন ধরনের ফেলে দেওয়ার জিনিস সংগ্রহ করে ডিলারের কাছে দিতে পারেন অথবা নিজে মেশিন কিনে নতুন পণ্য তৈরি করে বিক্রি করে ভালো আয় করতে পারেন, এটি একটি পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক ব্যবসা।
১৬.পরিবেশ বান্ধব পণ্য তৈরিঃ পরিবেশ বান্ধব পণ্য হলো এমন পণ্য যা তৈরি করা, ব্যবহার করা ও ফেলে দেওয়ার সময় পরিবেশের ক্ষতি করে না দ্রুত পচনশীল বিষাক্ত রাসায়নিক কম থাকে। প্রকৃতির জন্য নিরাপদ ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো যেমন -পাঠের ব্যাগ, কাঠের আসবাবপত্র মাটির থালা বাসন, হাড়ি পাতিল, বাঁশ দিয়ে বানানো বিভিন্ন জিনিসপত্র শোপিস, টুথব্রাশ আরো বিভিন্ন ধরনের জিনিস বানানো যায় যদি অন্যদের থেকে ভিন্ন কিছু ডিজাইন বের করতে পারেন তাহলে মার্কেটে আমরা চাহিদা বেড়ে যাবে। এই ব্যবসার কাঁচামাল হাতের নাগালেই তাই ৫০ হাজার টাকা কিংবা তারও কমে এই ব্যবসা শুরু করা যায়।
১৭.নার্সারি ও গাছ বিক্রির ব্যবসাঃ পরিবেশবান্ধব সকল ব্যবসার মধ্যে গাছ বিক্রির ব্যবসা গুরুত্বপূর্ণ কারণ গাছ আমাদের পরিবেশের প্রধান মানুষ এখন পরিবেশ সচেতন হওয়ায় শহরে কিংবা গ্রামে মানুষ বাসাবাড়ির আশেপাশে কিংবা বাড়ির ছাদে যতটুক জায়গা পায় গাছ লাগানোর চেষ্টা করে। বাজারের চাহিদা বুঝে বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ, ফলের গাছ, ঔষধি গাছ ও আরো বিভিন্ন ধরনের শোভা বর্ধক গাছ আছে যেগুলোর চাহিদাও বেশি ও বাজার দামও ভালো সেগুলো দিয়ে শুরু করতে পারেন। প্রথমে বাড়ির ছাদে কিংবা ছোট কোন জমিতে অল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করুন।
খাদ্য ও পানীয় ভিত্তিক ব্যবসার আইডিয়া
খাদ্য ও পানীয় ভিত্তিক ব্যবসার বর্তমানে অনেক চাহিদা বিশেষ করে যদি সেটা হোমমেড কিংবা অর্গানিক খাবার হয় তাহলে এর চাহিদা আরো বেশি।মানুষ এখন স্বাস্থ্য সচেতন তাই ভালো মানের খাবার ও অর্গানিক খবর দিতে পারলে পঞ্চাশ হাজার টাকায় একটি লাভজনক ব্যবসা শুরু করাতে পারবেন।
১৮.বেকারি ব্যবসাঃ ব্যবসা হল একটি লাভজনক খাদ্য ভিত্তিক ব্যবসা। রুটি, কেক, বিস্কুট, বান, পেষ্ট্রি,পিজ্জা আইটেম তৈরি করে সরাসরি দোকানে বা অনলাইনে বিক্রি করা যায়। বেকারি ব্যবসা শুরু করতে একটি ওভেন, মিক্সার, বেকিং ট্রে ও মোল্ডএবং খাদ্য তৈরির উপকরণ হিসেবে ময়দা, চিনি, বাটার, তেল বেকিং সোডা ইত্যাদি দরকার। তাই ৫০ হাজার টাকায় ভালোভাবে একটি বেকারি ব্যবসা শুরু করতে পারবেন ইনশাল্লাহ।
১৯.টিফিন/ হোমমেড ফুড সার্ভিসঃ টিফিন বা হোমমেড ফুড সার্ভিস ব্যবসা হল ঘরে তৈরি খাবার কাস্টমারদের কাছে সরবরাহ করা, বিশেষ করে স্কুল কলেজে ছাত্র ছাত্রী, ছোট পরিবার, ব্যাচেলর বা কোন অফিসের লাঞ্চ টাইম এর খাবার যারা প্রতিদিন রান্না করতে পারেন না এদের জন্য সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার ও রাতের খাবার তৈরি করে বাড়ি থেকে বা অনলাইনের মাধ্যমে সেল করতে পারেন এ ব্যবসা শুরু করতে ৫০হাজারের কম টাকা লাগতে পারে।
২০.চা কফির স্টলঃ চাকরি বা পড়ালেখার পাশাপাশি একটি চা কফির স্টল বাড়তি আয়ের একটি মাধ্যম হতে পারে এ ব্যবসা করার জন্য সারাদিন সময় লাগে না দিনে তিন-চার ঘন্টা সময় দিলে এখান থেকে ভালো মানের আয় করা যায় বিভিন্ন পার্ক, বিনোদন সেন্টার, ব্যস্ত বাজার, রাস্তার মোড়, স্কুল কলেজ বা কোচিং সেন্টারের সামনে চা-কফির স্টল ভাল চলবে। এই ব্যবসা শুরু করতে একটি চাকা ওয়ালা গাড়ি বা একটি টেবিল সেটআপ, চুলা, কেটলি, চামচ, ছাকনি, কাপ ইত্যাদি। বানাতে যেসব উপকরণ লাগবে দুধ চিনি চা পাতা কফি লেবু আদা ইত্যাদি আপনি চাইলে স্পেশাল চা বা কফিআইটেম রাখতে পারেন।
২১.ফাস্টফুড শপঃ ফাস্ট ফুড আইটেম এর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে ফাস্টফুড এর ব্যবসা একটি লাভজনক ব্যবসা হতে পারে। প্রথমে ছোট বা মাঝারি আকারে শুরু করে বাসা থেকে অনলাইনের মাধ্যমে সেল করতে পারেন অথবা ছোট একটি ফাস্টফুড স্টল দিয়ে শুরু করতে পারেন। ফাস্টফোর্ডের আইটেমগুলো আছে বার্গার, পিজ্জা, রোল, চিকেন ফ্রাই, স্যান্ডউজ,ফুচকা, চটপটি এগুলোর মধ্যে থেকে যেকোনো দুইটি বা তিনটা আইটেম দিয়ে শুরু করতে পারেন। ইনশাআল্লাহ ৫০হাজার টাকার মধ্যে হতে পারে
নারী উদ্যোক্তা উপযোগী ব্যবসার আইডিয়া
বাংলাদেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী অনেক সময় নারীদের লেখাপড়া শেষ করে চাকরি করা হয়ে ওঠে না
২৩.বুটিক ও ফ্যাশন ব্যবসাঃ বর্তমান নারীদের জন্য বুটিক ও ফ্যাশন ব্যবসা একটি লাভজনক ও সৃজনশীল উদ্যোগ। নিজের দক্ষতা ও রুচিকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত সফলতা অর্জন করা সম্ভব বুটিক ব্যবসা হল নিজস্ব ডিজাইন , ট্রেন্ডি পোশাক, হ্যান্ডমেট বা কাস্টমাইজ ফ্যাশন আইটেম তৈরি ও বিক্রির উদ্যোগ এখানে সৃজনশীলতা সবচেয়ে বড় শক্তি। কাস্টমাইজ শাড়ি থ্রি পিস ডিজাইন, হ্যান্ডমেড এমব্রয়ডারি ডিজাইন কিডস ও ফ্যামিলি মেচিং ড্রেস, হিজাব, ওড়না, ও উৎসব ভিত্তিক কালেকশন ইত্যাদি এগুলোর মধ্য থেকে প্রথমে দুই একটি দিয়ে প্রোডাক্ট নিয়ে ছোট আকারে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে অফলাইন বা অনলাইনের মাধ্যমে একটি বুটিক ও ফ্যাশন ব্যবসা শুরু করা যাবে।
২৪.হ্যন্ডমেড ক্রাফট/হস্তশিল্পঃ হ্যান্ডমেড ক্রাফট/ হস্তশিল্প ব্যবসা খুবই সম্ভাবনা একটি সেক্টর। এই সেক্টরে নারীরা নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে অল্প পুজিতে ঘরে বসে ব্যবসা শুরু করতে পারে । প্রথমে যে কোন একটা ক্যাটাগরি বেছে নিন যেমন- পাটের তৈরি ব্যাগ ,ম্যাট ,নকশি কাঁথা , হাতের এমব্রয়ডারি , মাটির জিনিসপত্র , শো পিস , জুয়েলারি (হাতের তৈরি কানের দুল , ব্রেসলেট, চুরি )ওয়াল হ্যাংগিং, কুশন কভার ইত্যাদি । প্রথমে দু একটা আইটেম নিয়ে অফলাইন বা অনলাইনে শুরু করতে পারেন ।
ব্যবসা সম্পর্কে কিছু টিপস
ব্যবসার শুরু বা চালানোর জন্য শুধু টাকা থাকলেই হবে না সঠিক পরিকল্পনা ধৈর্য্য আর
কৌশল দরকার নিচে ব্যবসা সম্পর্কে কিছু টিপস দেওয়া হলো
- ব্যবসা ছোট থেকে শুরু করুন
- মার্কেট রিসার্জ করুন
- নতুন কিছু তৈরি করার চেষ্টা করুন
- কাস্টমার সার্ভিস ভালো রাখুন
- ডিজিটাল মার্কেটিং এর ব্যবহার করুন
- খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
- ভালো সাপ্লাই দেওয়ার চেষ্টা করুন
- নিজেকে আপডেট রাখুন
- হিসাব ঠিক রাখুন
- ধৈর্য ধরুন
শেষ কথাঃ ৫০ হাজার টাকায় ২৫টি ব্যবসার আইডিয়া
৫০ হাজার টাকায় ২৫ টি আইডিয়া এই আর্টিকেল নিয়ে শেষ কিছু কথা বলি শুধু আইডিয়া জানা থাকলে লাভ নেই যদি শুরু না করেন ছোট করে শুরু করুন কিন্তু নিয়মিত করুন প্রথমে দুই তিন মাস ধৈর্য ধরতে হবে লাভ না হলেও হতাশ হবেন না একসাথে অনেক ব্যবসা শুরু না করে প্রথমে যে কোন একটিতে ফোকাস করুন করে পরে আস্তে আস্তে চাইলে বাড়াতে পারেন ।
৫০ হাজার টাকা কম মনে হলেও যদি সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রম থাকে তাহলে এটা দিয়েই আস্তে আস্তে বড় ব্যবসা গড়ে তোলা সম্ভব সফল ব্যবসায়ী হতে পুঁজি নয় দরকার ধৈর্য ও ধারাবাহিকতা। সব টাকা একসাথে ইনভেস্ট না করে ধীরে ধীরে করুন বাজারে চাহিদা অনুযায়ী নতুন কিছু করার চেষ্টা করুন ব্যবসা ধরে রাখার জন্য কাস্টমারের সাথে সবসময় ভালো ব্যবহার ও কাস্টমারকে সঠিক পণ্য দিয়ে ব্যবসায় সৎ থাকার চেষ্টা করুন ,সততাই ব্যবসার প্রধান মূলধন

জাকিয়া কানন আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url